
কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের ইনানীর পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের মরদেহ ১০ দিন পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে পাঁচ পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বজনদের হাতে মরদেহ তুলে দেন। মরদেহ পরিবহন ও দাফনের জন্য প্রতিটি পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট আড়াই লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার খিলগাঁও-মুগদা এলাকার আমিনুল ইসলাম খান তাঁর স্বজনদের ছয়জনের মরদেহ গ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার নুর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবীর (৩৫), তাঁদের ছেলে ফাইজান (৫) এবং ফারিয়ার ছোট ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী জেরিফ (২৪)।
নিহত অন্য তিনজন হলেন ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা (২৫) এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মেলিতা মেহেজাবিন আলভী (১৯)। তাঁরা ঢাকার খিলগাঁও-মুগদা এলাকার বাসিন্দা মো. সেলিমের তিন মেয়ে এবং ফারিয়ার তিন খালাতো বোন।
অন্যদিকে, যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা আক্তার (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রোবাইনা আক্তার (৯) ও সুনাইনা আক্তারের (৬) মরদেহ গ্রহণ করেছেন স্বজনরা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানান, মরদেহগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতদের স্বজন আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ১০ দিন পর তাঁরা স্বজনদের মরদেহ পেয়েছেন। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করে তিনি দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, পাঁচ পরিবারের ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত কেউ ছাড় পাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মামলা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে তিনি আশাবাদী।
গত ১৭ অক্টোবর সকালে কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে পাটুয়ারটেক সৈকতের কাছে অবস্থিত তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। ওই দিন সেখান থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।